অনুভবে আজও তুমি || Part-19

WriterBD / ৯৩ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১
Picture- writerBD

পর্ব-১৯

– পরের দিন সকালে কারো স্পর্শে মেহেরের ঘুম ভেঙে যায়। কেউ ওর মাথায় হাত বুলাচ্ছে। মেহের ভাবছে ফায়াজ ওর মাথায় হাত রেখেছে। তাই রাগে গজগজ করতে করতে চোখ খোলে যেই ধাক্কা দিবে তখনই দেখতে পেলো মিহু হাসি হাসি মুখে ওর পাশে বসে আছে। এতদিন পর বোনকে দেখে মেহের খুশিতে আত্মহারা।ওর চেহারায় খুশী

পর্বটির ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

মেহেরঃ – তুই? তুই কখন এলি!!

মেহেরের বোনঃ – মাই হ্যান্ডসাম জিজু ফোন করেছিলো। বললো তুমি নাকি একটু অসুস্থ। তাই আমি যেন কিছুদিন তোমার কাছে এসে থাকি। এখন উঠো, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নেও। আমি তোমার নাস্তা নিয়ে এসেছি।

মেহেরঃ – নাস্তা কে বানালো?

মেহেরের বোনঃ – কে আবার? রোজ যে বানায় সার্ভেন্ট। আমি তোমার পছন্দের সব আইটেম বলেছি ওনারা বানিয়েছেন।

– মেহের বুঝতে পারলো মিহু যেন ফায়াজের আসল চেহারা না দেখতে পারে তাই নিউ সার্ভেন্ট নিয়ে এসেছে। মেহের একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। তারপর সারাদিন ধরে দু’বোন অনেক মজা করলো। অনেক দিন পর একসাথে হয়েছে।তাছাড়া মিহু অনেক চঞ্চল একটা মেয়ে একদম চড়ুই পাখি। দু’জনে মিলে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখছে। মেহের মিহুকে পেয়ে যেন সব কিছু কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেছে। ফায়াজ সকাল থেকে দু’বোনকেই দেখে যাচ্ছে। মেহের সারাদিনে একবার ও কথা বলে নি ফায়াজের সাথে। ফায়াজের মন আনচান আনচান করছে মেহেরের সাথে কথা বলার জন্য। অনেক বার কথা বলার জন্য চেষ্টা করেছে কিন্তু প্রতিবার ই মেহের এড়িয়ে গেছে।

ফায়াজঃ – এ মেয়ে তো আমাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। বোনকে পেয়ে আমাকে ভুলে গেলো। আমি তো দেখছি নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারলাম। দাড়াও দেখাচ্ছি মজা।

– মিহু পপকন খাচ্ছে আর টিভি দেখছে। ফায়াজ এসে ওর পাশে বসলো।

ফায়াজাঃ – মিহু হেল্প মি, তোমার বোন তো আমাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। যেন আমাকে চিনেই না। প্লিজ প্ল্যান এক্সিকিউট করো।

মেহেরের বোনঃ – ওকে, মাই হ্যান্ডসাম জিজু। আপাতত হা করুন পপকন দিয়ে শুরু করি।

– ফায়াজ হা করলো মিহু ফায়াজকে পপকন খাইয়ে দিলো। মেহের উপর থেকে নামছে। সিড়িতে এসেই থমকে গেলো। মিহু আর ফায়াজ একে অপরের গা ঘেঁষে বসে আছে। আর হেসে হেসে গল্প করছে। মাঝে মাঝে মিহু ফায়াজকে পপকন খাইয়ে দিচ্ছে।মেহেরের ওদের দু’জনকে এভাবে দেখে ভালো লাগলো না। মেহের আবারো উপরে নিজের রুমে চলে গেলো। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবছে…

মেহেরঃ – ফায়াজ হঠাৎ করে মিহুকে কেন ডাকলো? আমার জন্য নিশ্চয়ই নয়। কি চাইছে ও?

– অপরদিকে ফায়াজের মন খচখচ করছে গতকাল বলা মেহেরের কথায়। তাই সুযোগ বুঝেই মিহুকে জিজ্ঞেস করলো…

ফায়াজঃ – আচ্ছা মিহু, তুমি আমাকে তোমার আপুর অতীত নিয়ে কিছু বলতে পারবে? মানে বিয়ে…

– মিহু থমকে গেলো। কিছুক্ষণ আগে বলা মেহেরের কথা মনে পড়ে গেলো।

(ফ্ল্যাশব্যাক…)

– মেহের মিহুকে আলাদা রুমে নিয়ে গিয়ে বলে…

মেহেরঃ – মিহু তোর ফায়াজ ভাইয়া যদি আমার অতীত জীবন নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে তবে কিছু বলিস না  প্লিজ। আমি চাইনা আমাদের বর্তমান জীবনে অতীতের কোনো ছায়া পরুক। প্লিজ।

মেহেরের বোনঃ – ওকে আপি, ডোন্ট ওরি। আমি কিছু বলবোনা।

(বর্তমানে আবার)

ফায়াজঃ – মিহু চুপ মেরে গেলে কেন?

মেহেরের বোনঃ – আসলে ভাইয়া, আপুর যখন বিয়ে হয়েছিলো তখন আমি ছোট ছিলাম। তেমন কিছু জানিনা। আর আপনি এসব জেনে কি করবেন? আপি আপনার বর্তমান আর সুন্দর ভবিষ্যতের সাথী। আপনি কালো অতীত নিয়ে না ভেবে আপনাদের বর্তমান ভবিষ্যৎ কিভাবে সুন্দর করবেন সে চেষ্টা করুন। প্লিজ। আপিকে তার অতীত মনে করাবেন না।

– ফায়াজ কি বলবে বুঝতে না পেরে বলল…

ফায়াজঃ – রাইট। আচ্ছা এটাতো বলো, তোমার আপির আগে থেকেই বিয়ে ঠিক ছিলো। মানে বিয়ের এক বছর আগে?

– মিহু মাথা চুলকিয়ে বললো…

মেহেরের বোনঃ – হ্যা, এমনটাই শুনেছি।

– তারপর আবার টিভি দেখায় মন দিলো। ফায়াজের রাগ হচ্ছে। তার মানে সত্যিই আমার সাথে ধোকা হয়েছে। আমার বন্ধুরা ঠিকি বলেছিলো। মেহেরের আগে থেকেই বিয়ে ঠিক ছিলো। আর সেটা আমার কাছ থেকে লুকিয়েছে। আমি লন্ডন চলে গেলাম আর ও বিয়ে করে নিলো। ভালো প্ল্যান করেছিলে।

– ফায়াজের বন্ধুরা যখন জানায় মেহেরের বিয়ে হয়ে গেছে। এটা জেনে ফায়াজ খুবই ভেঙে পড়ে। ওর মন শক্ত হলেও মেহের ওর দূর্বলতা ছিলো। এভাবে ওকে হারাতে হবে ভাবতে পারেনি। ঘটনার আকস্মিকতায় ফায়াজ খুব ভেঙে পড়ে আর মানসিক ভাবে দূর্বল হয়ে যায়। এতটাই ডিসপারেট হয়ে যায় যে নিজের ক্ষতি করতেও দ্বিধা বোধ করেনি। ওর অবচেতন আর অস্থির মনকে ওর বন্ধুরা ওই সময় যা বুঝিয়েছে ও তাই বুঝেছে। সেটাই সত্য মনে করেছে। মানসিকভাবে দূর্বল থাকায় বন্ধুদের কথাগুলো ওর ব্রেনে সেফ হয়ে গেছে। মেহের ওকে ভালোবাসেনি শুধু মাত্র নিজের প্রয়োজনে, নিজের সেফটির জন্য ওর সাথে অভিনয় করে গেছে।মেহের চুপচাপ, লাজুক, ভীতু টাইপ হওয়ায় ফায়াজের সাথে মন খোলে কথা বলতে পারতো না। আর এ কারণে ফায়াজের আরো মনে হয়েছে ও আসলেই ভালোবাসেনি।

– আর বন্ধুরা ওকে এসব বুঝিয়েছে যাতে মেহেরকে ঘৃণা করে জীবনে এগিয়ে যায় কিন্তু ভাগ্যের চাওয়া ছিলো অন্যরকম। এখন তাই হাজারবার কেউ যদি বলে মেহের নির্দোষ তবুও মানতে রাজী নয় তার মন। ফায়াজ ভাবছে মেহের তাকে আগে সত্যিই ভালোবাসেনি। এখন মিহুর কাছে বিয়ে ঠিক হওয়ার কথা শুনে আরো মনে হচ্ছে যেটা জানে সেটাই সত্যি।

– কলিংবেলে ফায়াজের চিন্তার অবশান ঘটলো। ফায়াজ দরজা খোলে একটা লোককে বড় একটা বক্স হাতে দাড়িয়ে থাকতে দেখলো।

ছেলেঃ – স্যার মেহের নওয়াজ খানের পার্সেল। ওনি আছেন?

ফায়াজঃ – জ্বী আমি ওর হাসব্যান্ড। কিসের পার্সেল?

ছেলেঃ – ওনি একটা গিটার অর্ডার করেছেন।

ফায়াজঃ – গিটার!!

– ফায়াজ সাইন করে পার্সেল নিয়ে ভিতরে আসতেই মেহের নিচে নেমে এলো। মেহের বারান্দা থেকে পার্সেল নিয়ে আসতে 

দেখেছে। ফায়াজ মেহেরকে দেখে জিজ্ঞেস করলো…

ফায়াজঃ – গিটার, গিটার দিয়ে কি করবে?

মেহেরঃ – ক্রিকেট খেলবো।

ফায়াজঃ – গিটার দিয়ে কেউ ক্রিকেট খেলে?

মেহেরঃ – তাহলে কি করে?

ফায়াজঃ – গান গায়।।

– মেহের কোনো উত্তর না দিয়ে ফায়াজের হাত থেকে গিটার নিয়ে চলে গেলো।

ফায়াজঃ – মিহু, কি হলো ব্যাপারটা?

মেহেরের বোনঃ – ভাইয়া, আপি গান করে।

ফায়াজঃ – গান? মেহের গান গায় কবে থেকে?

মেহেররের বোনঃ – ছোটবেলা থেকে।

ফায়াজঃ – কই আমি তো কিছুই জানি না।

মেহেরের বোনঃ – আপি নাচতেও পারে।

– ফায়াজ মনে মনে বলছে,

ফায়াজঃ এতকিছু আর আমি কিছুই জানিনা। ও আমাকে জানালে তো জানবো। যে মেয়ে গান জানে সে ভার্সিটির প্রথম দিন গান গাওয়ার জন্য কেদেকেটে ভাসায়? জানা ছিলো না।

– ফায়াজ উপরে চলে গেলো। মেহের বারান্দায় বসে গিটার চেক করছে। সুর তুলছে।

মেহেরঃ 🎶🎶

সখি ভাবনা কাহারে বলে,

সখি যাতনা কাহারে বলে,

তোমরা যে বলো দিবসো রজনী ভালোবাসা ভালোবাসা,

সখি ভালোবাসা কারে কয়,

সেকি কেবলি যাতনাময়।।

– ফায়াজ দরজার সামনে দাড়িয়ে গান শুনছে। মেহের ফায়াজকে দেখে গান বন্ধ করে দিলো।

ফায়াজঃ – তুমি যে গান জানো বলোনি তো।।

মেহেরঃ – বলাটা কি খুব জরুরি ছিলো?

ফায়াজঃ – না তেমন নয়।।

মেহেরঃ – আপনি মিহুকে কেন এনেছেন?

 

– ফায়াজ কিছু না বলে গুনগুন করতে করতে চলে গেলো। ফায়াজের এহেন ভাব দেখে মেহেরের গা জ্বলে যাচ্ছে। মেহের ডিনার শেষে রুমে গিয়ে সোফায় শুয়ে পরলো। ফায়াজ মেহেরের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো…

ফায়াজঃ – তুমি এখানে কেন?

মেহেরঃ – আমি আপনার সাথে এক রুমে থাকতে চাইনা। কিন্তু এখন যেহেতু মিহু আছে তাই আমি বাধ্য হয়েই এই রুমে আছি।তাই আমি সোফায় ঘুমাবো।

– ফায়াজ কিছু না বলে মেহেরকে তুলে বেডে শুইয়ে দিলো। মেহের উঠতে যাবে তখনই ওকে চেপে ধরলো। মেহেরের উপর হাতপা তুলে দিয়ে ফায়াজ ও শুয়ে পড়লো।

মেহেরঃ – ছাড়ুন। আমি আপনার সাথে থাকবোনা। আপনার ছোয়া সহ্য হচ্ছে না।

ফায়াজঃ – না হলেও কিছু করার নেই। তোমাকে এভাবেই থাকতে হবে। বিয়ে কি বউকে শোকেসে সাজিয়ে রাখার জন্য? বেশি চিৎকার করোনা মিহু শুনতে পাবে। লক্ষী মেয়ের মতো ঘুমাও।

– মেহের আর কোনো উপায় না দেখে শুয়ে রইলো। মেহের হাজার চেষ্টা করেও ফায়াজকে ঘৃণা করতে পারছেনা। ও ঘৃণা করতে চাইলেও মিন মানেনা। ওর ইচ্ছে করছে আজীবন এভাবে ফায়াজকে জড়িয়ে রাখতে। ভালোবাসা হয়তো এমনি।

– সকালে নাস্তা করতে নিচে নেমেই মেহেরের ফায়াজ আর মিহুকে চোখে পড়লো। দুজন একেবারে লেগে বসে আছে। হেসে হেসে গল্প করছে। মেহেরের বুক অজানা ভয়ে কেপে উঠলো। ফায়াজ কি চায়…

– মেহের কিছু বললো না। সারাদিন ওদের ফলো করে চললো। মিহু যেখানে ফায়াজ সেখানে, ফায়াজ যেখানে মিহু সেখানে। ওরা সব কিছুতেই একসাথে। কফি খাবে একসাথে, লাঞ্চ করবে, ডিনার করবে। কেউ কাউকে ছাড়া যেন চলতেই পারছেনা। দুপুরে দুজনে মিলে একসাথে সাতার কেটেছে। আর মেহের সাতার না জানায় বসে বসে দেখেছে। মেহেরের মিহুর এই বাড়াবাড়ি সহ্য হচ্ছেনা। বোন বলে কিছু বলতেও পারছেনা। ওর ইচ্ছে করছে বলতে মিহুকে চলে যেতে কিন্তু তাও পারছেনা।

মিহুকে ফায়াজকে নিয়ে কিছু বললেই মিহু ফায়াজের প্রশংসা শুরু করে দেয়। ফায়াজ দেখতে এমন, ওমন। ফায়াজ অনেক হ্যান্ডসাম, স্টাইলিশ, এই হিরোর মতো, ওই ক্রাশের মতো। যেন ওর বিএফকে নিয়ে কথা বলছে বোনের জামাই নয়। মেহের মিহুর উপর এক কথায় বিরক্ত। রাতে মেহের ফায়াজের সামনে গিয়ে বলে…

মেহেরঃ – এসব কি চলছে?

ফায়াজঃ – কি চলছে?

মেহেরঃ – মিহুকে নিয়ে?

– ফায়াজ মিহুর কথা শুনে উত্তরে মুচকি হাসি দিলো। মেহের আবারো জিজ্ঞেস করলো…

 

মেহেরঃ – আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি। ওকে এখানে কেন এনেছেন?

ফায়াজঃ – নিশ্চয়ই তোমার সেবা করতে আনিনি । আমার ফেবারে এনেছি। তোমাদের দেখলে মনেই হয়না তোমরা দুবোন। ও তোমার মতো নিরামিষ নয়। ওর মধ্যে একটা ব্যাপার আছে লাইক ম্যাজিক। আই লাইক হার সো মাচ।

– মেহের ফায়াজের কথার মানে মেলাতে পারছেনা। তবে বুঝতে পারছে কোনো গেইম প্ল্যান তো আছেই। মেহেরের ভিতরে ভয়, শংকা বেড়েই চলেছে। মেহের ফায়াজকে উদ্দেশ্য করে বললো…

মেহেরঃ – আমি মিহুকে অনেক ভালোবাসি। ওকে নিয়ে যদি কোনো গেইম খেলার চেষ্টা করেছেন তো এর ফল ভালো হবেনা।

ফায়াজঃ – ভয় পেয়ে গেলে? হার মেনে নিয়েছো? সেদিন না বড়বড় কথা বলেছিলে?

– মেহের সেদিন রাগের মাথায় এসব বলেছিলো। মেহের যতই শক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, ভিতরে ভিতরে মানসিক ভাবে অনেক দূর্বল। মেহের কিছু না বলে শুয়ে পরলো।

ফায়াজঃ – এত ভেবোনা মেহের বেবি। ভাবতে ভাবতে রাত পার হয়ে যাবে তবুও ভাবা শেষ হবে না। তাই ঘুমাও।

– পরেরদিন মিহু চলে গেলো। মেহেরও আটকায়নি। মিহু চলে যাওয়ায় কিছুটা নিশ্চিন্ত হলো। কিন্তু তার কয়েকদিন পর থেকে খেয়াল করলো মিহু প্রায়শই ফায়াজকে ফোন করে। মেহেরকে তেমন ফোন করে না। মেহের ফায়াজ আর মিহুর সম্পর্ক নিয়ে চিন্তায় আছে। ওদের মধ্যে কি চলছে বুঝার অনেক চেষ্টা করেছে। কয়েকদিন পর মিহু মেহেরকে ফোন করেই কান্না শুরু করে দিলো। ফায়াজ অফিসে ছিলো। মেহের মিহুর কান্না শুনে ভয় পেয়ে গেলো।

মেহেরঃ – মিহু, কলিজা আমার কি হয়েছে? এভাবে কাদছিস কেন?

– মিহু কাদার জন্য কথাই বলতে পারছেনা।

মেহেরঃ – মিহু প্লিজ বল। বাসায় সব ঠিক আছে তো?

মেহেরের বোনঃ – আপি আব্বু আমার বিয়ের চিন্তা করছে তার কোন বন্ধুর ছেলের সাথে।

মেহেরঃ -হ্যা, আম্মু আমাকে বলেছে। তুই কাদছিস কেন?

মেহেরের বোনঃ – আপি আমি এই বিয়ে করবো না।

মেহেরঃ – তুই বিয়ে কেন করতে চাস না? তুই এখন বিয়ে করবিনা নাকি আব্বুর পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে চাস না। কোনটা?

মেহেরের বোনঃ – আব্বুর পছন্দের ছেলেকে আমি বিয়ে করবো না। ফায়াজ ভাই কই? ওনাকে ফোন করে পাচ্ছিনা কেন?

– ফায়াজের কথা শুনে মেহেরের বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো। কাপা কাপা কন্ঠে বললো…

মেহেরঃ – ফায়াজ?? ফায়াজকে কেন? ওকে দিয়ে কি করবি?

মেহেরের বোনঃ – ওনাকে আমার প্রয়োজন। একমাত্র ওনিই আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। প্লিজ আপি।

মেহেরঃ – ওনি অফিসে। আমাকে কি বলা যায়না??

মেহেরের বোনঃ – আসলে আপি, তুই জানতে পারলে কষ্ট পাবি হয়তো। কিন্তু এখন আমার জীবন মরন অবস্থা তাই তোকে না বলে পারছিনা। আমি রিলেশনে আছি।

– মিহুর কথা শুনে মেহের বড়সড় একটা ধাক্কা খেলো।

মেহেরঃ – কিহ!! রিলেশন??? কার সাথে?

মেহেরের বোনঃ – ফায়াজ ভাইয়ের কাছ থেকে জেনে নিও। আমি রাখছি।

– এ বলেই মেহের ফোন কেটে দিলো। মেহের ফোন কানে নিয়ে ওইভাবেই স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে রইলো। ও বুঝতে পারছেনা কি চলছে। মিহু রিলেশনে?? আর ফায়াজকে কেন খোজছে? ফায়াজ অফিস থেকে এসে রুমে ঢুকতেই মেহের বললো…

মেহেরঃ – মিহু আপনাকে ফোন করেছিলো।

ফায়াজঃ – কেন?

মেহেরঃ – বাবা নাকি ওর জন্য ছেলে দেখেছে। কিন্তু ও বিয়ে করবেনা। ও নাকি রিলেশনশিপে আছে।

ফায়াজঃ – কে সে?

– ফায়াজের মেহেরের ভয়ার্ত চেহারা দেখে হাসি পাচ্ছে তবুও হাসি থামিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বললো…

ফায়াজঃ – তোমার বোনকে জিজ্ঞেস করো পেয়ে যাবে।

মেহেরঃ – ও বলেনি আমাকে। আপনি নয়তো?

– ফায়াজ কিছুক্ষণ মেহেরের দিকে অবাক হয়ে চেয়ে বললো…

ফায়াজঃ – তোমার কি মনে হয়?

মেহেরঃ – আমার তো অনেক কিছুই মনে হয়। যদি আপনি হয়ে থাকেন তবে আজই আমাকে ডিবোর্স দিবেন। আমি এখনি আপনার বাবা-মাকে জানাচ্ছি আপনি আমাকে ডিভোর্স দিবেন। তারপর আবারো বিয়ে করবেন।

– মেহের ফোন হাতে নিতেই ফায়াজ মেহেরের ফোন কেরে নিয়ে মেহেরকে একটা চড় মারলো। মেহেরের মুখে ডিভোর্সের কথা শুনে ওর রাগ উঠে যায়।

ফায়াজঃ – আমাকে আগে ভালোবাসতি না তাই ছেড়ে পালিয়েছিস কিন্তু এখন,,?? আমাদের সম্পর্ক যেমনি হোক আমরা স্বামী স্ত্রী। ডিভোর্সের কথা বলতে মুখে আটকালো না। একটুও বুক কাপলো না? আমাকে ছাড়ার এতো কিসের তাড়া? আমি তোকে এই জীবনে ছাড়ছিনা।

– ফায়াজ কাবার্ড থেকে জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে গিয়ে আবার ফিরে এসে মেহেরকে বললো…

ফায়াজঃ আহিল নামের একটা ছেলের সাথে ওর রিলেশন আছে। আর কিছু জানি না।

– ফায়াজ চলে যেতেই মেহের মুচকি হেসে বললো…

মেহেরঃ – ভাগ্যিস থাপ্পড়টা জোরে মারেনি। আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আপনাকে কে ছাড়ছে, আমি সব শেষ না দেখে আপনাকে ছাড়ছিনা। আমি তো ডিভোর্সের কথা বলেছি শুধু সত্যিটা জানতে। এখন মিহুকে ফোন করি। বদ মাইয়া কার গলায় ঝুলতে চায় একটু জানি।

লেখক- ফাবিয়া নওশিন

২০তম পর্ব পড়ুন


এ জাতীয় আরো ..