অনুভবে আজও তুমি || Part- 20

WriterBD / ১০৩ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১
Picture- writerBD

পর্ব- ২০

– মিহু মাথা নিচু করে মেহেরের বরাবর বসে আছে। মেহের বোনের দিকে গালে হাত দিয়ে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। হাতে একটা লাঠি। অনেক কষ্টে খোঁজে বের করেছে এই লাঠি। স্টোর রুমে থেকে এনেছে। উদ্দেশ্য বোনকে পিটানো। মিহু বারবার আড়চোখে বোনকে দেখেই যাচ্ছে। মেহের এবার লাঠি দিয়ে ফ্লোরে জোরে আঘাত করলো। মিহু কেপে উঠলো। মেহের চেচিয়ে বললো…

পর্বটির ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

মেহেরঃ – কথা বলবি না? না মাথা বরাবর দেবো একটা? দিলেই সব গরগর করে বলে দিবি। বোনকে বলতে পারোনা দুদিনের দুলাভাইকে বলতে পারো। খুব আদরের দুলাভাই না? সব সময় কোলে উঠে বসে থাকতে ইচ্ছে করে?

মেহেরের বোনঃ – আপি, ইটস নট ফেয়ার। তুমি আমার নামে মিথ্যা অপবাদ কেন দিচ্ছো? আমি ভাইয়ার কোলে কখনোই উঠিনি।

মেহেরঃ – উঠিস নি কেনো? উঠে বসে থাকতি গলা ধরে আর প্রেমিকের গুন কীর্তন করতি। আমাকে কেন বলিস নি?

মেহেরের বোনঃ – ভয়ে বলিনি।।

মেহেরঃ – এ আমি কি শুনছি। মিহু ভয় পায় তাও আমাকে?

মেহেরের বোনঃ – না মানে আসলে তুমি ব্যাপারটা কিভাবে নিতে, তাই? যদি বাবার কথা ভেবে বাধা দিতে আমাকে তাই।

(তুমি জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছো একজনকে ভালোবেসে। তাই আমার মনে হয়েছে তুমি যদি আমার জীবনের কথা ভেবে, আমার কষ্টের কথা চিন্তা করে মানা করো তাই বলার সাহস পাইনি। সরি আপি।)

মেহেরঃ – ওই কই হারাইলি? বিএফের কাছে? কি যেন নাম ছেমড়ার?

মেহেরের বোনঃ – আপি, ছেমরা কি ভাষা? ছেলে বলো। ওর নাম আয়মান আহিল। আমি ওকে খুব ভালোবাসি। বাচবো না ওকে ছাড়া। আপি প্লিজ কিছু করো।

– মেহের দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মিহুর কাধে হাত রেখে বললো…

মেহেরঃ – চিন্তা করিস না। আমি থাকতে তোর সাথে ভুলভাল কিছু হবেনা। আমি বাবার সাথে কথা বলব। বাবা যদি রাজি না হয় আমি নিজে তোর বিয়ে দেবো। এতে যদি বাবার সাথে আমার সম্পর্ক চিরকালের জন্য শেষ হয়ে যায়, যাবে। আই ডোন্ট কেয়ার।তবে ছেলেটা ভালো হতে হবে। আমার বোনকে তো যার তার হাতে তুলে দেবো না।

মেহেরের বোনঃ – আপি, ও খুব ভালো ছেলে। কিন্তু বাবা রাজি হবেনা শিওর। আমি চাইনা আমার জন্য তোমার সাথে বাবার সম্পর্ক নষ্ট হোক।

– ফায়াজ দুবোনকে একসাথে কথা বলতে দেখে ওদের দিকে আসে। আর তখনই… মেহের মিহুর কথা শুনে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসছে।

মেহেরঃ – মিহু তুই বলছিস এই কথা? তুই জানিস বাবার সাথে আমার সম্পর্ক কেমন। একদম সস্তা কাচের মতো টোকা দিলেই ভেঙে যাবে। এমন ঠোনকো সম্পর্ক থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। আমার সঙ্গে যা হয়েছে আমার জীবন থাকতে তোর সাথে আমি তা হতে দেবোনা।

– ফায়াজ মেহেরের এসব কথা শুনে বেশ অবাক হলো। মেহের কি বলছে? ওর সাথে ওর বাবার সম্পর্ক ভালো নয়। আর ওর সাথে যা হয়েছে মানে… মিহু ফায়াজকে দেখে বলে…

মেহেরের বোনঃ – আরে ফায়াজ ভাই, আসুন।

– মেহের ফায়াজকে দেখে কিছুটা বিব্রতবোধ করে। ফায়াজ মেহেরের পাশে বসে। তারপর বলে…

ফায়াজঃ – হায় গার্লস কি নিয়ে কথা হচ্ছে?

মেহেরঃ – ওর বিয়ে নিয়ে।

– তা ছেলের বাড়ি কই? মিহু কাচুমাচু হয়ে বললো…

মেহেরের বোনঃ – আপি আমাদের পাশের বাসার পরের বাসা।

মেহেরঃ – কিহ? প্রেম করার জন্য আর ছেলে পেলিনা, পাশের বাসায়ই প্রেম করতে হলো? আর কি করার, বাপবেটি ছাদে উঠে গোলাগুলি করবি।

ফায়াজঃ – মিহু বেশ করেছো। এত হিসাব করে কেউ ভালোবাসে না। লাভ জাস্ট হয়ে যায়। সে যতই তুচ্ছ হোক।

– মেহের ফায়াজের দিকে একবার তাকালো। তারপর বললো…

মেহেরঃ – কতদিন ধরে চলছে?

মেহেরের বোনঃ – ১বছর।

মেহেরঃ – ১বছর? তুই আমার নাকের নিচ দিয়ে পাশের বাসার ছেলের সাথে প্রেম করছিস আর আমি জানতেই পারলাম না?

মেহেরের বোনঃ – কেন আপি, তুমিও তো…

– মিহু ফায়াজের দিকে চেয়ে থমকে গেলো। তারপর মেহেরের দিকে কাদো কাদো হয়ে তাকালো। ফায়াজ বললো…

ফায়াজঃ – কি বললে মিহু? কমপ্লিট করো।

মেহেরের বোনঃ – আমি বললাম আপিও তো আমাকে না জানিয়ে কতকিছু করে। গান রেকর্ড করেছে, নাচের ভিডিও বানিয়েছি। সেগুলো তো আমি অনেক পড়ে জানতে পেরেছি। সেটা বললাম।

ফায়াজঃ – ওহহ। এখন বলো কি করতে হবে? ওয়েট, আগে তোমার ওই আহিলকে একদিন আমাদের বাসায় নিয়ে এসো। কথা বলি, দেখি দেন তোমার বাবার সাথে আমি নিজে কথা বলবো।

মেহেরঃ – হুম। মিহু, তুই আহিলকে নিয়ে আয় একদিন। আর চিন্তা করিস না একদম। তোর বড় বোন তোর মাথার উপরে আছে।

মেহেরের বোনঃ – লাভিউ আপি। আমার কলিজাটা।

মেহেরঃ – হু, সে আর দুদিন। বিয়ে করে এই কলিজাকে ভুলে যাবি।

মেহেরের বোনঃ – কখনোই না, আমি পুরো দুনিয়া ভুলে যেতে পারি কিন্তু আমার আপিকে নয়। তুমি মেহের মেয়েটাই এমন তোমাকে যে ভালোবেসেছে একদিন, সেই জানে তোমাকে ভুলা কি কঠিন।

– ফায়াজ মিহুর কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো।আর মনে মনে বলতে লাগলো…

ফায়াজঃ – এই মেয়ে তো একদম ঠিক বলছে। একদিন ভালোবেসেই আমার আজ এ অবস্থা।ভুলতে তো আজো পারিনি। আজো অনুভব করি। আমার হৃদয় জোরে আজো তারই বসবাস। তাই তো আমার সাথে এতবড় অন্যায় করার পর ও আমি ওকে দ্বিতীয় চান্স দিতেও প্রস্তুত।

– মিহু বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেলো। ফায়াজ এখনো সেখানেই বসে আছে। মেহের মিহুকে এগিয়ে দিয়ে এসে দেখে ফায়াজ মাথা চেপে ধরে বসে আছে। উঠার নাম নেই কিছু জিজ্ঞেস করতে চেয়েও পারলো না।

ফায়াজঃ –মেহের, এই দিকে এসো?

– মেহের ভয়ে ভয়ে ফায়াজের দিকে এগিয়ে গেলো। কেননা মেহের যে লাঠিটা এনেছিলো সেটা এখন ফায়াজের হাতে।

ফায়াজঃ – তোমার আর তোমার বোনের কথার মধ্যে আমি অনেক রহস্য লুকিয়ে থাকতে দেখেছি। এবার আমাকে একটু খোলাসা করে বলো তো।

মেহেরঃ – কোনো রহস্য নেই। আপনার রহস্য মনে হওয়ার কারণ আপনি নিজেই। সব সময় সব কিছুতেই সন্দেহ করেন। এতো সন্দেহ করা ভালো নয়। এসব চিন্তা বাদ দিয়ে মিহুর প্রব্লেম সলভ করুন।

ফায়াজঃ – এত ভালোবাসো মিহুকে?

মেহেরঃ – বোনকে ভালোবাসাই স্বাভাবিক। আপনিও আপনার বোনকে ভালোবাসেন। তবে আমি আমার বাবা-মায়ের চেয়ে ওকে বেশি ভালোবাসি।

ফায়াজঃ – আমাকে কেন ভালোবাসতে পারোনি?

– ফায়াজের এমন প্রশ্নে মেহের থমকে যায়। ফায়াজের দিকে চোখ পড়তেই দেখে ফায়াজ ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটিয়ে আবারো মাথা চেপে নিচের দিকে চেয়ে বসে রইলো।

মেহের হাটছে কিন্তু কোথায় যাচ্ছে জানা নেই। আনমনে ভাবছে…

মেহেরঃ – ফায়াজ আমি তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম। খুব ভালোবেসে ছিলাম। আজো ভালোবাসি। কিন্তু তুমি সব শেষ করে দিয়েছো। সেদিন তুমি আমার মনটাকে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে ফেলেছো। আমার প্রতি এত ঘৃণা তোমার? কেন? কেন তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে চাওনা? একটু তো বিশ্বাস করতে পারতে আমার কথা গুলো। আমার কথাগুলো তোমার কাছে নাটক মনে হয়, মন ভুলানো গল্প মনে হয়। আমি যদি এখন তোমার কথার উত্তর দিতাম। তুমি আমাকে অবিশ্বাস করে আমার ভালোবাসার অপমান করছে, মজা করতে। তাই বলিনি। বলবো না। তুমি যা ভেবে সুখ পাও।

– মেহের ঘোর ভাংলে নিজেকে ছাদে আবিষ্কার করে। সন্ধ্যা নেমে এসেছে। হুহু করে বাতাস বইছে। বাতাসে মেহেরের চুল উড়ছে।মেহের চোখ বন্ধ করে দুহাত প্রসারিত করে জোরে জোরে নিশ্বাস নিলো। নিজের কষ্ট গুলো বাতাসে উড়িয়ে দিলো। ফায়াজের অফিসে ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং চলছে। মেহের ফায়াজের নাম্বারে ফোন করেই চলেছে। কিন্তু রিসিভ হচ্ছেনা। মেসেজ করেও রিপ্লে পাচ্ছেনা। ফায়াজের ফোন সাইলেন্ট মুডে রাখা।

মিটিং শেষ করে গাড়িতে উঠে বসে ফোন চেক করে দেখে মেহেরের নাম্বার থেকে অনেকগুলো মিসকল। ফায়াজ ব্যাক করতে নিয়েও করলো না। ভাবলো বাসায়ই তো যাচ্ছি। গিয়েই জেনে নিবো। গাড়ি স্টার্ট দিলো। কিছুক্ষণ পর কি ভেবে মেহেরকে ফোন করলো।

 

মেয়েটা একা বাসায়। কোনো সমস্যা হয় নি তো। নয়তো এতোবার ফোন করেছে কেন? সেদিন মিহু যাওয়ার পর মেহের রাগ করেই সব সার্ভেন্টদের ছুটি দিয়ে দেয়। এত দয়ার দরকার নেই। ফায়াজও বাধা দেয়নি। যদি এসব করে শান্তি পায় পাক। কিন্তু আজ টেনশন হচ্ছে। মেহের ফোন রিসিভ করছেনা। ইচ্ছে করেই না ব্যস্ত আছে। ফায়াজ গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেয়। বাড়ির কিছুটা সামনে আসতেই গেইট দিয়ে একটা সাদা রংয়ের গাড়ি বেরিয়ে যেতে দেখে। গাড়িতে একটা ছেলে বসে ছিলো। তাড়াহুড়ায় ড্রাইভ করছে। ছেলেটার গায়ে বেগুনি রঙের শার্ট, চোখে সানগ্লাস। ফায়াজ ছেলেটিকে চিনার চেষ্টা করেও ব্যার্থ।ফায়াজ সেখানেই গাড়ি থামিয়ে দেয়। অপরিচিত একটা ছেলে আমার বাসায় কি করছে? আমি কি ভুল দেখলাম। না সেটা কি করে সম্ভব? আমি মাত্রই দেখলাম, ভুল কি করে হতে পারে? ফায়াজ গাড়ি গেইট থেকে একটু ভিতরে নিয়ে ওয়াচম্যানের সামনে গিয়ে দাড়ালো।

ফায়াজঃ – চাচা, কেউ এসেছিলো? সাদা গাড়িটা কি এইখান থেকেই বের হলো?

চাচাঃ – জ্বী সাহেব। ম্যাডামের সাথে দেখা করতে এসেছিলো।

– ফায়াজের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। ও আস্তে আস্তে হেটে পুলের পাশে গেলো। ও পুল সাইটে গিয়ে বসে পড়ল। নির্বিকার ভংগীতে পানিতে পা ডুবিয়ে রেখেছে।

ফায়াজঃ – মেহের, তুমি আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য এসব করছো? আমাকে কষ্ট দিতে চাও? সেদিনের বদলা নিতে চাইছো?পাচ্ছি তো, অনেক কষ্ট পেলাম। তুমি আবারো আমার মন ভাংলে। আমাকে আবারো ধোকা দিলে। ভেবেছিলাম সব ভুলে নতুন করে শুরু করবো আর তুমি নতুন গেইম খেলা শুরু করেছো?

 

– ফায়াজের বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে না। ওভাবেই বসে রইলো। তারপর শান্তভাবে হেটে বাড়ির ভিতরে গেলো। ভিতরে ঢুকে দেখে মেহের টেবিলের উপর থেকে এটো কাপ, পিরিচ গোছাচ্ছে। বুঝাই যাচ্ছে কাউকে নাস্তা দেওয়া হয়েছিলো। মেহের ফায়াজের আসার শব্দে ঘুরে দাড়ালো। মেহের ডার্ক ব্লু রংয়ের জরজেট শাড়ি পড়েছে, কানে স্টোনের এয়ারিং, দুহাত ভর্তি কাচের চুরি, চোখে কাজল, ঠোঁটে লিপস্টিক। মেহেরকে মোহনীয় লাগছে। ফায়াজ এক দৃষ্টিতে মেহেরের দিকে চেয়ে আছে।মেহের ফায়াজের এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে অস্বস্তিতে পড়ে গেলো। তাই কিছু বলতে পারছেনা। আবার যেই ঘুরে নিজের কাজে মন দিবে তখনি ফায়াজ ওকে এক টানে ঘুরিয়ে দুহাত চেপে ধরলো। মেহের ফায়াজের দিকে তাকাতেই ভয় পেয়ে গেলো।ফায়াজকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে ও রেগে আছে। রাগে ফুসফুস করছে। জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। চোখ মুখ ভয়ংকর করে মেহেরের দিকে চেয়ে আছে। মনে হচ্ছে এখনি ওর চোখ দিয়ে জ্বালিয়ে দিবে। কিন্তু মেহের এই রাগের কারণ বুঝতে পারছেনা।

মেহেরঃ – কি হলো, আপনি এমন করছেন কেন?

ফায়াজঃ – আমার বউকে তো খুব সুন্দর লাগছে। অন্যের জন্য এত সাজগোজ করেছিস, কই আমার জন্য তো কখনো সাজতে দেখিনি? এসব কেন করছো? আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য? আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য? সেদিনের বদলা নিতে একটা লোককে বাড়িতে ঢুকিয়েছো? আমাকে জ্বালানোর জন্য?

মেহেরঃ – কোন লোক? কি বলছেন?

ফায়াজঃ – আমি আসার সময় দেখেছি। এখন না জানার ভান করোনা।

 

– মেহের ভেবে পাচ্ছেনা কার কথা বলছে? ওরা তো প্রায় এক ঘন্টা আগে চলে গেছে। তাহলে কাকে দেখলো? কে এসেছে?

মেহেরের নিরবতা দেখে ফায়াজ মেহেরের হাত জোরে চেপে ধরলো। মেহের আহ, করে উঠলো। ফায়াজের হাতের চাপে চুরি ভেঙে হাতে ঢুকে যাচ্ছে।

মেহেরঃ – ছাড়ুন, আমার লাগছে। আমি জানিনা আপনি কার কথা বলছেন?

ফায়াজঃ – যাকে তুমি ফাকা বাড়িতে এনেছো তার কথাই বলছি। কে ছিলো? কোথায় থেকে জোগাড় করেছো? সেদিনের বদলা নেওয়ার ছিলো আমাকে মেরে নিতে, এভাবে?

মেহেরঃ – কিসের বদলা? কি বলছেন?

ফায়াজঃ – এত মাসুম সাজার চেষ্টা করোনা। সেদিন তুমি আমাকে বলেছিলে তুমিও যদি বাইরের কোনো ছেলের সাথে মিশো আমি মেনে নিতে পারবো কিনা? আর তাই সে প্রতিশোধ নিতে একে কোথা থেকে নিয়ে এসেছো? আমার বাড়িতে তোমার সাহস হলো কি করে? আমার সাথে গেইম খেলছো?

– মেহেরের হাত চুরিতে কেটে যাচ্ছে। না চাইতেও মেহেরের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।

মেহেরঃ – আমি কাউকে আনিনি। জানি না কার কথা বলছেন। আমি তো সেদিন রাগের মাথায় এসব বলেছিলাম। এরকম কিছু করার নূন্যতম ইচ্ছে আমার নেই। প্লিজ আমার হাত ছাড়ুন।

– ফায়াজের মেহেরের কথায় কনফিউজড লাগছে। এ হাত আরো জোরে চেপে ধরে বললো…

ফায়াজঃ – তুমি না ডাকলে এই ছেলে কিভাবে আমার বাড়িতে আসার সাহস পেলো?

মেহেরঃ – জানিনা। আমি কাউকে দেখেনি।

– ফায়াজ আরও কনফিউজড হয়ে গেলো। তারপর বললো…

ফায়াজঃ – বেগুনি শার্ট পরা ছিলো ছেলেটা।

– মেহের এবার কান্না থামিয়ে অবাক হয়ে ফায়াজের দিকে চেয়ে রইলো। মেহেরের মুখ থমথমে হয়ে আছে।

ফায়াজঃ – চিনতে পেরেছো?

– মেহের চোখমুখ শক্ত করে ফায়াজকে এক ধাক্কা দিলো। ফায়াজ কিছুটা দূরে সিটকে গেলো। তারপর মেহেরের মুখের দিকে চেয়ে রইলো।

মেহেরঃ – সবাই আপনার মতো না। আমি তো নইই।

– আহিল এসেছিলো আপনার সাথে দেখা করতে। বলেই মেহের দৌড় দিলো। ফায়াজ নিজের মাথায় হাত দিয়ে বললো…

ফায়াজঃ – ওহ মাই গড।

– তারপর মেহেরের পিছে পিছে গেলো। মেহের ভিতর থাকে দরজা লক করে দিয়েছে। ফায়াজ দরজা ধাক্কা দিতেই হাতের দিকে নজর গেলো। হাতে রক্ত। বুঝতে পারলো ও রাগের মাথায় কি করেছে। ফায়াজ অনবরত দরজা ধাক্কাচ্ছে। কিন্তু মেহের খোলছে না।

ফায়াজঃ – মেহের দরজা খোলো প্লিজ। নয়তো কসম করে বলছি দরজা ভেঙে দেবো।

– মেহের বাধ্য হয়েই দরজা খোলে দিলো। তারপর বিছানায় বসে কেদেই চলেছে। ফায়াজ মেহেরের হাত ধরে দেখে হাত অনেকটা কেটে গেছে। মেহের হাত টান দিয়ে সরিয়ে নেয়। ফায়াজ ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে মেহেরের হাত ধরে মেহের হাত সরিয়ে বলে…

মেহেরঃ – প্রয়োজন নেই আপনার এত দয়ার। আমারটা আমি করে নিতে পারবো।

ফায়াজঃ – মেহের আই এম সরি। আমি তোমাকে কখন থেকে জিজ্ঞেস করছি, কিন্তু তুমিও তো বলোনি। তুমি যদি প্রথমেই বলে দিতে তাহলে…

মেহেরঃ – ওরা চলে গেছে ১ঘন্টা আগে আর আপনি এখন এসেছেন তাহলে আমি কিভাবে বুঝবো?? আপনি না জেনেই সব সময় রিয়েক্ট করেন। আপনি আমাকে যা নয় তাই বলেছেন।

ফায়াজঃ – মেহের আমি ভেবেছিলাম ওই দিনের জন্য তুমি আমার সঙ্গে এমন করছো। ভেবেছিলাম তুমি আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য এসব গেইম খেলছো। আমি জানি তুমি খারাপ কিছু করবেনা। কিন্তু ভেবেছিলাম তুমি এসব প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য করছো।

– মেহের কেদেই চলেছে। ফায়াজ ওর হাত ধরে নিয়ে সেভলন লাগাতেই আরো জোরে কেদে দিলো। ফায়াজ মেহেরের হাতে ফু দিয়ে দিচ্ছে।

ফায়াজঃ – মেহের, একটু, ঠিক হয়ে যাবে।

– মেহেরের হাতে ওষুধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলো। মেহের কেদেই চলেছে। ফায়াজ টিস্যু দিয়ে মেহেরের চোখ মুছাতে গেলে 

মেহের ফায়াজকে ধাক্কা মেরে বলে…

মেহেরঃ – চলে যান, আপনি আমাকে ছুবেন না। আপনার কাজ শেষ আপনি এখন যেতে পারেন।

ফায়াজঃ – মেহের প্লিজ সরি।

মেহেরঃ – আপনি সরি বললেই সব ঠিক হয়ে যাবে? আপনার বলা কথা, আমার কাটা হাত, ঠিক হয়ে যাবে। সরি বললেই সাতখুন মাপ?

– এ বলেই মেহের মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ফায়াজ ও কিছু না বলে উঠে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পরে মেহের নিচ থেকে কিছু ভাংগার শব্দ পায়।

(যারা বলছেন ওদের মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং অবশান করে দিন তাদের বলছি হুট করেই তো সব করা যায়না। তাহলে অগোছালো হয়ে যাবে। আর ফায়াজের ভুল বুঝাবুঝি নিয়েই গল্প শুরু। ভুল বুঝাবুঝি শেষ মানেই গল্প শেষ। আমি গল্পটার প্রেমে পড়ে গেছি শেষ করতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু শেষ তো করতেই হবে। বেশি বড় করলে হিজিবিজি হয়ে যাবে। আগামী দুই এক পর্বেই চেষ্টা করবো ফায়াজের ভুল ভাংগার। তারপর শেষ করে দিবো। ধন্যবাদ।)

লেখক- ফাবিয়া নওশিন

২১ম পর্ব পড়ুন


এ জাতীয় আরো ..