নামহীন এক কবির প্রেম

WriterBD / ১২৬ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১
Pictuer- unsplash

Script- Rashudul Islam

আমি একজন কবি, হ্যাঁ আমি একজন কবি,
অমাবস্যার আঁধার ভেদিয়া দেখাতে পারি রবি।
বলিবো আমি আজ আপনারে, আমার প্রেমের কথা
হয়েছিনু আমি প্রেমে ব্যর্থ , পেয়েছিনু বড়ই ব্যথা।
ছিলাম আমি বড়োই লাজুক, নামটি মোর আকাশ।
ব্যর্থ প্রেমের আঘাতে হৃদয়ে, জমেছে মেঘ একরাশ।
যারে আমি, ভালোবেসে ছিনু- সেও ছিল এক কবি,
আঁকিয়া ছিনু, মোর হৃদয়ে তার একখানা ছবি।
কিন্তু সে হইলো পর, দিল বুকেতে ব্যথা,
নীরবে ঝরে চোখের জল, মনে পড়িলে তাহার কথা।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

চলুন তবে শুরু করা যাক, শোনাই গল্প খানি,
সম্পূর্ণ এই গল্প শোনাবো, কাব্যের সুর টানি।

মেয়ে: এই ছেলে, তুমি এতো লাজুক কেন? বলোনা কেন কথা? এতো লজ্জা কেন তোমার? মুখে নেই কেন কথা?

ছেলে: মেয়ে দেখিলেই হাঁটু কাঁপে মোর, হারাই মুখের ভাষা, গলা কেঁপে ওঠে, বলার কিছু খুঁজে না পাই, চোখে দেখি কুয়াশা।

(বন্ধুরা আসলে আমি তখনো ভিতরে ভিতরে অনেক কাঁপছি। আমি ক্লাস সিক্স থেকে অনার্স ফার্স্ট ইয়ার পর্যন্ত কোন মেয়ের সাথে সেভাবে কথা বলিনি। মেয়েদের প্রতি আমার আলাদা একটা দুর্বলতা ও লজ্জা কাজ করতো। কোন মেয়ে সামনে এসে দাড়ালেই আমি মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলতাম।তবে অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে উঠার পরে একটা বড় ভাইয়ার কাছে পড়তে শুরু করি। সেখানেই একটি মেয়ের সাথে আলাপ হয়। মেয়েটিই আগে আমার সাথে কথা বলা শুরু করে। তো একদিন অডিটোরিয়ামের সামনে বসে ছিলাম। এরপর যা হলো, চলুন তা কবিতা দিয়েই আপনাদের শোনাই।)

মেয়ে: আচ্ছা, কি করো তুমি? কী কী গুন তোমার আছে? বলো আমি তা জানিতে চাই, এখন তোমার কাছে।

ছেলে: আমি একজন সামান্য ছেলে, টিউশনি করে চলি, গুন বলতে কবিতা লিখি, কী আর বলো, বলি!

(আমি সেই ক্লাস সিক্স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেছি। বলতে পারেন এটা আমার বাবার কাছে থেকে পাওয়া একটা গুণ। জেনটিক্স গত বিষয়। আমার বাবাও একজন লেখক ছিলেন। তিনি ব্র্যাকের নাট্যকলা বিভাগে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন নাটক লিখতেন। বাবার এই গুণটি আমি পেয়েছি। তবে আমি নাটক লিখি না। কবিতা লিখতে পছন্দ করি। ওহ, এরপরে মেয়েটি কী বললো, চলুন আপনাদের তা শোনাই।)

মেয়ে:
তুমিও কবিতা লেখ? আমিও তো লিখে থাকি,
তোমার পরিবারে কেউ কখনো, লেখক ছিল নাকি?

ছেলে:
আমার বাবা লেখক ছিলেন, লিখতেন মন দিয়ে,
তবে আমি খুবই নগন্য, আমার বাবার চেয়ে।
আমার বাবা অনেক গুনি, লিখেছেন কবিতা-গান,
পড়িলে তাহা জুড়ায় হৃদয় , ভরিয়া ওঠে প্রাণ।
আমিও তাই চেষ্টা করি, বাবার মতোই হতে,
আনাড়ি আমি, ছড়া কবিতা, লিখি কোনমতে।
তা, তুমি কি করো? কেমনে তুমি, লেখালিখি করো?
সাহিত্য জগতের সকল কিছু, লিখিতে কী তুমি পারো?

মেয়ে:
না না বাবা, আমি অতোটা এক্সপার্ট হয়নি,
ভালো লাগে তাই লেখালেখি করি, অত কিছু বুঝিনি।
তুমিও লেখ ,আমিও লিখি, দুজনের মিল ভারি,
এখন থেকে কী, আমরা দুজনে বন্ধু হতে পারি?

ছেলে:
হ্যাঁ অবশ্যই, এখন থেকে বন্ধু মোরা হলাম,
সারাটা জীবন তোমার বন্ধু , হয়ে রবো কথা দিলাম।
হবেনা আমাদের বন্ধুত্ব শেষ, রবে আজীবন বেঁচে,
কাটিয়ে দেবো মোরা দুজনে- লিখে, গেয়ে আর নেচে।

(বন্ধুরা, আমরা দুজনে বন্ধু হলাম। আমাদের মাঝে অনেক মিল ছিল। এজন্য আমাদের বন্ধুত্ব অনেক গভীর হয়ে উঠলো। ওহ, ভুলেই তো গেছিলাম। আমার বন্ধুর নাম আপনাদের বলাই হয়নি।ওর নাম হচ্ছে নদী। ওর আরেকটা নাম হচ্ছে বৈশাখী। তবে আমি ওকে কোন নামেই ডাকতাম না। আমি নিজেই ওর একটা নাম দিয়েছিলাম। ওর নাম দিয়েছিলাম “Rose”। কারণ নদী দেখতে গোলাপের মতোই সুন্দর ছিল। গোলাপের মতোই পবিত্র ছিল। আর গোলাপের মতোই মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে আমার হৃদয়টা সুশীতল করে দিত।)

মেয়ে:
লিখালিখি করো তাহা বুঝিলাম, গাইতে কি তুমি পারো?
গানের গলা শুনিতে চাই, একটি গান ধরো।

ছেলে:
গলা আমার হাঁসের মতো, শুধু ফ্যাসফ্যাস করে,
গাইলে গান এই গলাতে, সবাই হাসিয়া ছাড়ে।
তাই আমি গাইনা গান, দাও মোরে মাফ করে,
তুমি নাহয় ধরো গান তোমার- মিষ্টি গলার সুরে।
শুনবো আমি এখন আমার হৃদয় উজার করে।

মেয়ে:
এখন তাহা সম্ভব নয়, লোকে দেখে হাসিবে,
আমার গলাও খুব ভালো নয়, ভালো নাহি লাগিবে।
শোনাবো গান শুধু তোমায়, রাত্রিতে কল দিও,
হৃদয় ভরিয়া, প্রাণ খুলিয়া, গানখানি শুনে নিও।
তবে কিন্তু হাসা যাবে না, আগেই বলিয়া দিলাম,
এই নাও মোর ফোন নাম্বার, মোবাইলে লিখে দিলাম।

ছেলে:
এরপরে আমি, আমার বান্ধবীর নাম্বার খানি নিলাম।
এবার মোরা দুজন দুজনাকে, বিদায় জানালাম।

(আমরা দুজন দুজনাকে বিদায় জানিয়ে, যে যার বাসায় ফিরে গেলাম। আর রাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। এরপরে রাত্রি হয়ে এলো। আমি নদীকে ফোন দিলাম।)

আমি:
হাই, কি করো তুমি, কেমন আছো?
আমি আকাশ, চিনিতে কি পেরেছো?

মেয়ে:
পেরেছি মশাই চিনিতে পেরেছি, তোমারে কেমনে ভুলি ?
তোমার একখানা ছবি আঁকছি, দিয়ে নয় রং-তুলি।
পেন্সিল দিয়ে, নিজের হাতে, তুমি কি দেখিতে চাও?
মেসেঞ্জারে এক্ষুনি তাহলে, ভিডিও কল দাও।

আমি:
ওয়াও, তুমি ছবিও আঁকো! জানা ছিল না মোর,
মেসেঞ্জারে নয়, আসছি কাছে তোমার, দাও খুলে ঘরদোর।

মেয়ে:
শখ কতো! হবে না মশাই, এতো রাতে যাবে না আসা,
দারোয়ান ধরে কেলাবে তোমায়, মার খাবে একদম খাসা।
আমার বাবা দেখিলে পরে, কপালে আছে শনি,
পরিবে তখন আমার পিঠেতে, বেতের আদর জানি।
তারচেয়ে বরং মেসেঞ্জারেই, ভিডিও কল দাও,
চক্ষু মেলিয়া, মন দিয়া, ছবি খানি দেখে নাও।

ছেলে:
ঠিক আছে তবে, কি আর করা, এভাবেই দেখে নিই,
দেখি তুমি, কেমন এঁকেছ, দেখি তুমি কতো গুণী!

(বন্ধুরা এরপরে আমি নদীকে মেসেঞ্জারে ভিডিও কল দিলাম। কল দিয়ে আমি একদম অবাক হয়ে গেলাম। নদী সত্যিই অনেক ভালো আর্ট করতে পারে। একদম নিখুঁত ভাবে আমার ছবি এঁকেছে। আমি সত্যি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তবে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ওকে ধন্যবাদ দেইনি, একটা ট্রিট দেবো বলেছিলাম। এভাবেই আমাদের বন্ধুত্ব আরো গভীর হয়ে গেল। ও একদিন আমার কাছে একটা আবদার করলো। ওর নামে একটা কবিতা লিখে দিতে বললো। আমিও লিখে দিলাম। আপনারা কি কবিতাটা শুনতে চান? চলুন তাহলে শুনে নিন।)

ছেলে:
স্তব্ধ এই পৃথিবী জুড়ে রয়েছি জাগিয়া আমি,
নিঝুম নিশির দুয়ার খুলে, দেবে কি ধরা তুমি?
উড়ে গেছে ঘুম দূর অজানায়, শঙ্খচিলের ডানায়
এসেছি তাই শূন্যতলে, রাত্রি স্বাগত জানায়।

আমি নির্ঘুম, আমি নিশ্চুপ, তবে আমি একা নই
পৃথিবীজুড়ে প্রাণের জোয়ারে উঠেছে ঢেউ অথৈ।
স্নিগ্ধ এই নিশির পরশ, হৃদয় খানি কাড়ে,
তাদের দলে মিশিয়া এখন ভুলে গেছি আমি মোরে।

ইচ্ছে করে যাই উড়িয়া ডানাতে ভর করি,
নভোদ্বার খুলে ডাকিছে আমায়, আসমানী অপ্সরী।
এথায় যেন স্বর্গ আমার , চাইনা আসিতে ফিরে
কাটিয়ে দেবো রাত্রি এথায় যাবোনা আর ঘরে।

যদি তুমিও আসিতে চাও চলে এসো সব ভুলে
ভিড়িয়েছি আমি পঙ্খিরাজ তোমার নদীর কূলে।
দুজনে মিলে গল্প-গল্পে কাটিয়ে দেবো রাত,
ফিরে না হয় যেও চলে, হইলে পরে প্রভাত।

মেয়ে:
কেমনে পারো! লিখিতে কবিতা করিয়া এতো সুন্দর,
এক নিমিষেই, তুমি আমার কেড়ে নিলে অন্তর।

ছেলে:
তাই বুঝি, সত্যিই কী আমি জয় করেছি তোমার মন?
এভাবে কী তুমি থাকবে পাশে, ধরে সারাজীবন?

(বন্ধুরা আমি সত্যি সত্যি নদীকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি। কিন্তু হয়তো নদী আমাকে ভালোবাসে না। তা আমি বুঝতে পারলাম, একদিন ওকে একটি অন্য ছেলের সাথে কথা বলতে দেখে। পরে আমার বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারি, ছেলেটি নদীর বয়ফ্রেন্ড। আমি সত্যিই তখন অনেক কষ্ট পেয়েছি। কারণ আমি সত্যিই নদীকে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। একদিন আমাদের মাঝে অনেক ঝগড়া হয়েছিল। সেদিন নদী আমাকে প্রথমে প্রপোজ করেছিল। কিন্তু এর পিছনে একটা ছোট গল্প রয়েছে। চলুন এটাও ছন্দ দিয়েই আপনাদের শোনাই।)

মেয়ে:
আই লাভ ইউ। কেন বোঝনা তোমায় আমি অনেক ভালবাসি,
কেন তুমি রাগ করে আছো! বোঝনা কেন? তোমায় ভাবি আমি দিবানিশি।
তুমি রাগ করিলে পরে , বুকটা কেমন করে,
মনে হয় যেন, বেঁচে থেকেও, গেছি আমি মরে।

ছেলে:
সত্যি তুমি ভালোবাসো মোরে, বলোনা তা আরেকবার,
শুনিতে চাই তাহা আমি, খুলে মোর প্রানো দুয়ার।

(বন্ধুরা সেদিন নদী আমাকে আই লাভ ইউ বলেছিল। কারণ ,সে আমাকে সত্যি ভালোবাসতো। তবে সে একটা ভুল করেছিল। আমার সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার ৩ মাস পূর্বেই, সে একটা ছেলের সাথে রিলেশনে জড়িয়ে পড়ে। ছেলেটা নদীকে অনেক ভালবাসতো। কিন্তু নদী বুঝতে পেরেছিল তার জন্য আমি সঠিক ব্যক্তি ছিলাম। কিন্তু সে ছেলেটিকে ঠকাতে পারে নি। আর আমিও নদীর আবেগের কোন সুযোগ নেই নি। তাই আমি নিজেই সরে এসেছি নদীর জীবন থেকে। এখনও আমাদের মাঝে বন্ধুত্ব রয়েছে। তবে আগের মতো আর কথা হয়না। কারণ আমি ইমোশনাল হয়ে পড়ি। তাই ওকে অনেকবার ব্ল্যাকলিস্টেও রেখেছিলাম। তবে পারিনি বেশিদিন ব্ল্যাক লিস্টে রাখতে। ব্ল্যাকলিস্ট থেকে আনলক করে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিয়েছি বারবার। তবে এখন আর ওর সাথে খুব একটা কথা বলি না। শুধুমাত্র ওর ফেসবুক প্রোফাইলটা বারবার ঘুরে দেখি।

বন্ধুরা, জীবনে হয়তো আপনিও প্রেমে পড়বেন। তবে সঠিক মানুষের জন্য অপেক্ষা করবেন। নইলে সারাটা জীবন পস্তাতে হবে।

 

copyright by @বাড়িয়ে দাও তোমার হাত


এ জাতীয় আরো ..