ম্যাডাম যখন ক্রাশ || Part- 01

WriterBD / ১৭৫ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১
Picture- collected

Script- Rashudul Islam

আমি: আমি হৃদয়। অনার্স থার্ড ইয়ারে ইংরেজি ডিপার্টমেন্টে পড়ছি। ছেলে হিসেবে আমি মোটেও সুবিধার নই। আবার আমি একদম খারাপও নই। রাজশাহী কলেজে পড়ালেখা করি। ক্লাস থাকুক আর নাই থাকুক , আমি প্রতিদিন কলেজে যাই। আর মাঝেমধ্যেই নতুন মেয়েদের জ্বালাতন পছন্দ করি। তবে একদিন ভুলবশত অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ঘটনা ঘটে যায়। ঘটনাটি প্রায় তিন মাস আগে ঘটেছিল।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

আমি: আজকে তো কোন নতুন মেয়েকে দেখলাম না।

সোহেল: তাই তো দেখছি। তবে অপেক্ষা কর, অপেক্ষার ফল মিঠা হয়।

আমি: সোহেল আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমার পিছনে ছায়ার মতো লেগে থাকে। এছাড়া রনি, হাবিব ও তূর্য সহ আমরা মোট পাঁচজন একসাথে থাকতাম। যাই হোক, হঠাৎ করে একটা মেয়েকে দেখতে পেলাম।

সোহেল: বলেছিলাম না, অপেক্ষার ফল মিঠা হয়। দেখ, একটা অপরিচিত মেয়ে এদিকেই আসছে। মেয়েটাকে দেখতেও কিন্তু অসাধারণ।

আমি: তাইতো দেখছি। দেখি মেয়েটা কোথায় যায়।

আমি: (মেয়েটা আমাদের দিকেই আসছে। আমাদের কাছে এসে মেয়েটা জিজ্ঞেস করলো…

তুমি: আচ্ছা, ইংলিশ ডিপার্টমেন্টটা কোন দিকে বলতে পারেন।

আমি: কেন? ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট কোনদিকে তা জেনে কি করবে?

তুমি: একটু দরকার ছিল। সেজন্যই আপনাদের জিজ্ঞাসা করলাম।

আমি: ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছো নাকি?

তুমি: না, আমি ভর্তি হইনি

আমি: তাহলে , ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের খোঁজ করছো কেন?

তুমি: আসলে, আজকে আমি কলেজে জয়েন্ট করতে এসেছি।

আমি: খুব ভালো কথা। বুঝতে পেরেছি ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হতে এসেছো। চলো তোমাকে দেখিয়ে দেই।

তুমি: আমাকে বলুন কোন দিকে,, আমি নিজে থেকেই যেতে পারবো।

আমি: এতো সহজে তো দেখানো যাবে না। আমাদের জন্য একটা কাজ করে দিতে হবে।

তুমি: দরকার নেই, আমি অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করে খুঁজে নেব।

আমি: তাতো হবে না, কেউ তোমাকে হ্যাল্প করবে না।

তুমি: আমাকে থ্রেড দেওয়ার চেষ্টা করছেন?

আমি: বুঝতেই যখন পেরেছ, তখন ভালোই হয়েছে। যাও এখন আমাদের জন্য এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো।

তুমি: আচ্ছা, আপনারা কি ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট?

আমি: হ্যাঁ, কেন ? কোনো সন্দেহ আছে?

তুমি: না, এমনি জিজ্ঞাসা করলাম। আচ্ছা আমি সিগারেট এনে দিচ্ছি।

আমি:  (দেখলাম মেয়েটির চুপচাপ আমাদের সামনে থেকে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরেই মেয়েটি এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে আসলো।)

তুমি: এই নিন সিগারেট।

সোহেল: মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে ও সিগারেট খায়।

আমি: আমারও তো তাই মনে হচ্ছে। এই মেয়ে তুমি সিগারেট খাও নাকি?

তুমি: সত্যি কথা বলতে, আমি আগে টুকটাক সিগারেট খেতাম। তবে এখন আর খাইনা।

আমি: বুঝতে পেরেছি। এজন্যই তুমি আমাদের এক কথাতেই সিগারেট এনে দিলে।

তুমি: তা আপনারা এতো কমদামি ব্র্যান্ডের সিগারেট খান কেন? ডার্বি কোন ব্র্যান্ড হলো?

সোহেল: তা, তুমি কোন ব্র্যান্ডের সিগারেট খেতে?

তুমি: সর্বপ্রথম বেনসন দিয়ে শুরু করেছিলাম। এরপরে বিভিন্ন ব্র্যান্ড টেস্ট করেছি। তবে কখনো কমদামি ব্র্যান্ডের সিগারেট খাইনি।

আমি: ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট এই দিকে। এখান থেকে সোজা গেলেই ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট পেয়ে যাবে।

তুমি: ধন্যবাদ।

আমি: (মেয়েটিকে সহজেই ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট দেখিয়ে দিলাম। কারণ ভেবেছিলাম মেয়েটিকে রেগিং দেবো, এখন দেখলাম মেয়েটির উল্টো আমাদেরকে রেগিং দিয়ে দিল। মেয়েটি অনেক ওভার স্মার্ট। মেয়েটি যাওয়ার পরে সোহেল বললো….)

সোহেল: এটা কি হয়ে গেলো? এতো ওভার স্মার্ট মেয়ে আমি জীবনে কখনোই দেখিনি।

আমি: ঠিক বলেছিস। এজন্যই সোজাসাপ্টা পথ দেখিয়ে দিলাম। তবে আর যাই বলিস না কেন, মেয়েটা যেমন স্মার্ট তেমনি সুন্দরী।

সোহেল: একদম ঠিক বলেছিস।

আমি: (এরপর আমরা আড্ডা দিতে থাকলাম। এভাবে কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়ার পরে, আমরা ক্লাসে গেলাম। অনেকেই বলাবলি করছে, আজকে নাকি আমাদের ডিপার্টমেন্টে নতুন একজন লেকচারার এসেছে। সে লেকচারার নাকি একজন মেয়ে। এই বিষয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই। কারণ  আমি কখনোই ক্লাস করি না। তবে ভাবলাম, যেহেতু নতুন কোন লেকচারার এসেছে ,তো লেকচারার এর মুখটা দেখেই যাই। এরপরে যা দেখলাম, তাকে আমি একদম আকাশ থেকে পড়লাম। দেখলাম একটু আগে যেই মেয়েটিকে রেগিং দিলাম সেই মেয়েটিই আমাদের নতুন লেকচারার।)

সোহেল: ও  মাই গড, ইনি আমাদের নতুন লেকচারার?

আমি: এখনো কোনো সন্দেহ আছে?

সোহেল: নেই নেই, কোন সন্দেহ নেই। তবে কপালে আজ শনি আছে এটা খুব সহজেই বুঝতে পারছি।

আমি: মাথা নিচু করে , চুপ করে বসে থাক।

আমি: (এরপর ম্যাডাম নিজের পরিচয় দিলেন। তিনি বললেন….)

তুমি: আমার নাম রাইসা সুলতানা। আমি ইংলিশে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। পাশাপাশি আমি পিআরসি ফাউন্ডেশন এর একজন রির্সাস্যার। সেখান থেকেই আমি ইংরেজি সাহিত্যের উপর গবেষণা করেছি। আর এরপরে BCS শিক্ষা ক্যাডার হয়েছি। এখন তোমরা একে একে নিজেদের পরিচয় বলো।

আমি: (সবাই যে যার মতো পরিচয় দিয়েছিল। অবশেষে আমাদের পালা আসলো। আমরা মাথা নিচু করে বসে আছি দেখে, ম্যাডাম আমাদের কাছে আসলেন। আমাদের কাছে আসতেই ম্যাডাম আমাদের চিনতে পারলেন।)

আমি: ম্যাডাম আমি হৃদয়।

তুমি: হ্যাঁ, তোমাকে আমি চিনতে পেরেছি। আর ও হচ্ছে তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড, সোহেল। ঠিক বলেছি তো?

আমি: (ম্যাডাম আমাদেরকে চেনে, এটা দেখে ক্লাসে অন্যান্য স্টুডেন্টরা আমাদের দিকে তাকালো। কিন্তু তারা তো আসল কাহিনীটা জানেনা। যাই হোক, সেদিনের মতো, কোনমতে পার পেয়ে গেলাম। পরেরদিন ক্লাসে যেতেই দেখি, সকল স্টুডেন্ট উপস্থিত। সবাই ম্যাডামের ক্লাস করছে। মনে হচ্ছে সবাই অনেক মনোযোগী। অনার্স লাইফে এই প্রথম আমি সম্পূর্ণ ক্লাস ভর্তি দেখলাম। আসলে এর আগে কখনো কোনো ম্যাডাম আমাদের ডিপার্টমেন্টে ছিলোনা। তার উপর সত্যি কথা বলতে, ম্যাডামকে দেখতে ভালোই লাগে। আমাদের ডিপার্টমেন্টের সকল ছেলেরা ম্যাডামের উপরে ক্রাশ খেয়ে গেছে। যাই হোক,,,,যেই আমি, কোন দিন কোন ক্লাসে উপস্থিত থাকিনি,সেই আমি আজ সম্পূর্ণ ক্লাস করলাম। এরপরে ক্লাস শেষ হয়ে গেল। ম্যাডাম চলে গেলেন। কখন যে কাজ শেষ হয়ে গেছে আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ম্যাডামের পেছনে পেছনে দৌড়ে গেলাম….)

আমি: হ্যালো ম্যাডাম, কেমন আছেন?

তুমি: হ্যাঁ ,ভালো আছি। তা সিগারেটের ব্র্যান্ড কি চেঞ্জ হয়েছে? নাকি কম দামি ব্র্যান্ডের সিগারেট চলছে

আমি: হ্যাঁ ম্যাডাম, চেঞ্জ করেছি

আমি: (একবার ভাবুন বন্ধুরা, ম্যাডাম আমাকে জিজ্ঞাসা করছে সিগারেটের ব্র্যান্ড  চেঞ্জ করেছি কিনা? আমি ভাবতেই পারছি না, ম্যাডাম আমাকে সবার আগে এই প্রশ্নটা করবে। অন্য কোন‌ স্যার হলে জিজ্ঞাসা করতো, পড়ালেখা ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা? কিন্তু ম্যাডাম তার একদম উল্টো। যাই হোক, ম্যাডামকে সিগারেট খাওয়ার ইনভাইটেশন দেওয়ার আর পেলাম না। এমনিতেই, এর আগে না বুঝে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। এভাবেই দিনকাল চলছে থাকলো। এখন আমি অন্য মেয়েদেরকে আর বিরক্ত করিনা। ওগুলো করতে আমার আর ভালো লাগে না। কেন জানিনা, ম্যাডামের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছি। হঠাৎ একদিন…)

আমি: ম্যাডাম, আপনাকে একটা কথা বলতে চাই?

তুমি: শুধু একটা কথাই বলবে? যতো ইচ্ছা, ততো কথা বলতে পারো , আমি এখন একদম ফ্রি আছি।

আমি: ডিপার্টমেন্টের সকল ছেলেরা আপনার উপর ক্রাশ খেয়েছে। সবাই আপনাকে অনেক পছন্দ করে।

তুমি: আচ্ছা, বুঝলাম। আর তুমি?

আমি: সকলের মধ্যে ,আমিও তো রয়েছি। আচ্ছা ম্যাডাম, আপনি এখনো বিয়ে করেননি কেন?

তুমি: কে বলেছে, আমি বিয়ে করিনি?

আমি: মানে, আপনি বিবাহিত? আপনার স্বামী আছে?

তুমি: হুম, আমি বিবাহিত।

আমি: তাহলে সেদিন ক্লাসে মিথ্যা বললেন কেন? আপনি তো নিজেই বললেন, আপনি অবিবাহিত।

তুমি: সেদিন ইচ্ছে করেই মিথ্যে কথা বলেছি। কারণ, আমি জানি সবাই আমাকে পছন্দ করে। এজন্যই আমার ক্লাসে সবাই উপস্থিত থাকে। কিন্তু যদি বলতাম আমি বিবাহিত, তাহলে আমার ডিমান্ড একটু কমে যেতো।

আমি: (ম্যাডামের এই কথা শুনে আমার চোখ কপালে উঠে গেল। বুঝতে পারলাম, ম্যাডামের কাছে আমি একদম শিশু। আমি যদি চলি ডালে ডালে, ম্যাডাম চলে পাতায় পাতায়।)

আমি: আপনি সত্যিই অনেক জিনিয়াস?

তুমি: এইজন্যই তো প্রথম চান্সেই বিসিএস ক্যাডার হতে পেরেছি।আর তোমাদের ঠিকঠাক কন্ট্রোল করতে পারি।

আমি: (আসলে বন্ধুরা ম্যাডাম সত্যিই বিবাহিত নয়। ম্যাডাম আমাকে বোকা বানিয়েছে। ম্যাডাম আমাকে গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছিল। পরে অনেক খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি, ম্যাডাম সত্যি সিঙ্গেল। তবে ম্যাডামকে আমি জানতে দেইনি যে, আমি ম্যাডামের আসল পরিচয় জেনে গিয়েছি।  এরপর আমি ম্যাডামকে ফলো করতে থাকি।)

পর্ব- ০2


এ জাতীয় আরো ..