ম্যাডাম যখন ক্রাশ || শেষ পর্ব

WriterBD / ২৩৭ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১
Picture- collected

Script- Rashudul Islam

তুমি: আমাকে আজকাল একজন ফলো করছে।

আমি: কে সেই ব্যক্তি? একবার বলুন ম্যাডাম, আমি ওর বারোটা বাজিয়ে ছাড়বো।

তুমি: তা ,কী করবে শুনি?

পর্বটির ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

আমি: আপনাকে ফলো করতে নিষেধ করবো। ওয়ার্নিং দেবো।

তুমি: ব্যাস! এটুকুই! তোমার জায়গায় যদি আমি থাকতাম তাহলে ছেলেটির হাড়গোড় ভেঙে দিতাম। এমন কেলানো কেলাতাম যে, সাতদিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হতো।

আমি: অ্যা!

তুমি: অ্যা নয়, হ্যাঁ।

আমি: আপনি সত্যিই অনেক ডেঞ্জারাস। এতো ওভারস্মার্ট হলেন কিভাবে?

(বন্ধুরা, ভাবছেন হয়তো আমি ম্যাডামের সাথে এতো খোলাখুলি কথা বলছি কিভাবে! আসলে ম্যাডাম আমার সাথে বন্ধুর মতোই মেশেন। তাই আমিও ম্যাডামের সাথে ফ্রি হয়ে গিয়েছি। মাঝে মাঝে তো ম্যাডামের নাম ধরেই ডাকি। হাহাহা)

তুমি: সে অনেক লম্বা কাহিনী। একদিনে বলা সম্ভব নয়।

আমি: এতো বড় কাহিনী শোনার ধৈর্য আমারও নেই। আপনি শুধু ছোট করে সারমর্ম বলুন। তাহলেই হবে।

তুমি: আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে শোনো।

(তখন আমি অনার্স ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট ছিলাম। আমি খুব সাদাসিধে মেয়ে ছিলাম। কলেজের প্রথম দিনেই একটা ছেলে আমাকে প্রপোজ করেছিল। আমিতো ভয়ে কান্না করে দিয়েছিলাম। আমার কান্না দেখে ছেলেটি বলেছিল, সে নাকি আমাকে র্্যাগ দিতে এসেছেল। কিন্তু আমার কান্না দেখে ছেলেটি নিজেই ভয় পেয়ে যায়। তারপর থেকে আমরা আস্তে আস্তে পরিচিত হই। এক সময় ও আমাকে সত্যি সত্যি প্রপোজ করে। আমিও ছেলেটিকে অনেক ভালবেসে ফেলি।  কিন্তু ছেলেটি আমার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করেছিল। পরবর্তীতে ছেলেটি অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে। এরপর থেকে ভালবাসার প্রতি আমার আর কোনো বিশ্বাস ছিল না।)

আমি: বুঝতে পারলাম। আপনি ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গেছেন। এজন্যই এতটা বাস্তববাদী হয়ে গিয়েছেন। পাশাপাশি অনেক স্মার্ট হয়ে গিয়েছেন। তা ছেলেটির এখন কি অবস্থা? তার সম্পর্কে কিছু জানেন?

তুমি: পরবর্তীতে আমি আর কোন খোঁজ খবর রাখিনি। তবে মাসখানেক আগে দেখা হয়েছিল। দেখি ছেলেটা এখন অটো চালায়।

আমি: আপনি কি সেই অটোতে প্যাসেঞ্জার হয়ে উঠেছিলেন নাকি?

তুমি: একদম ঠিক ধরেছ। সেদিন হঠাৎ করে অটোতে উঠেছিলাম। এরপর খেয়াল করে দেখি আমার এক্স সেই অটোর ড্রাইভার।

আমি: হাহাহা। কি একটা অবস্থা। তা অটো ড্রাইভার হলো কিভাবে?

তুমি: ওর মুখেই শুনলাম, বিয়ের পরে নাকি ওর বাবা ওকে আলাদা করে দিয়েছে। তারপর ও আর চাকরি পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে অটো চালাচ্ছে।

আমি: আহারে! তা আপনি সান্ত্বনা দিলেন না?

তুমি: সান্তনা দেই নি। মনে মনে অনেক দোয়া করে দিয়েছি।

আমি:তা, কি দোয়া করলেন?

তুমি: ওর কপালে যেন অটো না জোটে। সামনে যেন রিক্সা চালাতে হয়।

(একবার ভেবে দেখুন বন্ধুরা। কতটা দূরদর্শী সম্পন্ন মেয়েরা এমনটা ভাবতে পারে। ম্যাডাম সত্যিই অনেক বাস্তববাদী। তাছাড়া কেউ কি নিজের এক্স কে এমন দোয়া দিতে পারে!)

আমি: ও মাই গড। আপনি সত্যিই অনেক ডেঞ্জারাস।

তুমি: এতদিনে বুঝলে?

আমি: না মানে, অনেক আগেই বুঝতে পেরেছি। তবে আজকে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারলাম। আপনার মতো মেয়ে হয়না। হাজারো সেলাম।

তা একটু আগে বললেন, কে যেন আপনাকে ফলো করে। তার নামটা কি?

তুমি: তুমি তাকে চেনো। খুব ভালো করেই চেনো।

আমি: আমি তাকে চিনি! কে সেই ব্যক্তি? সোহেল নাকি?

তুমি: নাহ, সোহেল না।

আমি: তাহলে কে?

তুমি: কেন তুমি।

আমি: না মানে। আপনাকে আমি ফলো করি নাতো।

তুমি: আমিতো সব বুঝি। না হলে তোমাদের ম্যাডাম হলাম কি করে! এগুলো আমি অনেক আগেই পার করে এসেছি! যদি কোন ছেলে কোন মেয়েকে , 5 কিলোমিটার দূর থেকেও ফলো করে, তবুও মেয়েরা বুঝতে পারে। আর আমি তো তোমাদের ম্যাডাম।

আমি: না মানে ,হ্যাঁ। আসলে আপনি যেটা ভাবছেন তেমনটা নয়। আমাদের ডিপার্টমেন্টে এর আগে কখনো কোন ম্যাডাম আসেনি তো, তাই আরকি।

(বন্ধুরা ম্যাডামের কাছে থেকে কোন কিছু লুকোনোর উপায় নেই। ম্যাডাম আমাদের মতো ছেলেদের হাতের মুঠোয় করে নাচাতে পরে। তাই আমি ম্যাডামের সাথে কোন কথা বললে, ভেবেচিন্তে বলি।)

তুমি : হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি। আমাকে আর বোঝাতে হবে না। তা, তোমার কোন গার্লফ্রেন্ড আছে নাকি?

আমি: না নেই। আজ পর্যন্ত একটাও জোটাতে পারিনি।

তুমি: পারবে কেমন করে! মেয়েদের পটাতে যোগ্যতা লাগে। তোমার ভেতরে কোন যোগ্যতাই নেই।

আমি: কেন কেন ! সকল যোগ্যতাই আমার ভেতরে আছে।

তুমি: সে তোমাকে দেখেই বুঝতে পারছি! এতোই যদি যোগ্যতা থাকতো, তাহলে এতদিনে দশ-বারোটা প্রেম করে ফেলতে।

আমার তো এখন সন্দেহ হয়, তুমি পুরুষ মানুষ তো!

আমি: আচ্ছা, আমি প্রেম করে আপনাকে দেখিয়ে দেবো। তখন দেখবেন, আমার যোগ্যতা আছে, নাকি নেই।

তুমি: ঠিক আছে দেখা যাবে। তবে তোমার মতো কমদামি ব্র্যান্ডের প্রেমে কোন মেয়ে পড়বে না।

আমি: খুব জলদি দেখিয়ে দেবো আপনাকে। আমি কমদামি ব্র্যান্ড ,নাকি বেশি দামি।

(সেদিনের মতো ম্যাডামকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে চলে আসলাম। রাতে আমার বন্ধু সোহেলের সাথে কথা বললাম।)

আমি: ম্যাডামকে চ্যালেঞ্জ করেছি, যে ভাবেই হোক একটা প্রেম করে দেখিয়ে দেবো।

সোহেল: কিন্তু তুই যে হারে মেয়েদেরকে জ্বালিয়েছিস, কোন মেয়েকি তোর প্রেমে পড়বে?

আমি: দোস্ত, যেভাবেই হোক একটা ব্যবস্থা কর। নইলে মান সম্মানটা আর থাকবে না। ম্যাডামকে মুখ দেখাতে পারবো না।

সোহেল: আচ্ছা দেখছি, কি করা যায়।

আমি: ওকে, একটু দেখ।

(এই বলে ফোনটা কেটে দিলাম। আমি পরের দিন থেকে কলেজের মধ্যে ভদ্র ছেলে হয়ে গেলাম। আর আমার বন্ধুদেরও মেয়েদেরকে বিরক্ত করতে নিষেধ করে দিলাম। আর এক পর্যায়ে আমি একটা মেয়ের প্রেমে পড়ে যাই। চ্যালেঞ্জ করে প্রেম করতে গিয়ে, সত্যিই অনেক ভালোবেসে ফেলি মেয়েটিকে। আর এই কটাদিন আমি ম্যাডামের পিছু ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপর একদিন আমি প্রেম করতে পেরেছি এই খবরটি দিতে বুক ফুলিয়ে ম্যাডামের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।)

আমি: ম্যাডাম, আমি চ্যালেঞ্জ জিতে গিয়েছি। আজকে আমার একটা গার্লফ্রেন্ড আছে। এখন আমি প্রেম করি।

তুমি: গুড, গুড, ভেরি গুড। আমিও তো এটাই চেয়েছিলাম।

আমি: মানে!

তুমি: তুমি এতদিন যাবৎ অনেক মেয়েকে জ্বালিয়েছো। তুমি অনেকদিন যাবৎ আমায় ফলো করছিলে। তাই আমি ভাবলাম ,তোমায় যদি প্রেম করিয়ে দেওয়া যায় তাহলে আমার প্রবলেমটা সলভ হয়ে যাবে। তুমি আমাকে আর ফলো করবে না। অন্য কোনও মেয়েকেও আর জ্বালাতন না। তাইতো প্ল্যান করে তোমাকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম ।

আমি: ও মোর খোদা! আপনি সত্যিই অনেক জিনিয়াস। আমি আজ পর্যন্ত আপনার মতো এতো জিনিয়াস মেয়ে দেখেনি।

(সত্যিই ম্যাডাম অনেক জিনিয়াস। আমি এ কথা কখনও ভাবিনি যে, প্রেম করতে গিয়ে আমি অন্য মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বো। আর ম্যাডামকে ফলো করা ছেড়ে দেবো। কিন্তু ম্যাডাম বুদ্ধি করে আমাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে প্রেম করিয়ে দিল। আবার অন্য কোন মেয়েদেরও আমি আর জ্বালাতন করি না। আজকে আমি চ্যালেঞ্জ জিতে গিয়েও হেরে গেলাম।)

ম্যাডাম: সামনে মাসে 2 তারিখে আমার বিয়ে। তোমাদের সকলের দাওয়াত রইলো। অবশ্যই আসবে।

আমি: জী ম্যাডাম ,অবশ্যই যাবো। তা পাত্র কি করে?

তুমি: সে ব্যবসা করে। নিজের বিজনেস আছে।

আমি: আপনি একজন বিসিএস ক্যাডার হয়ে, একজন বিজনেসম্যানকে বিয়ে করবেন এটা আমি ভাবতেই পারছি না।

তুমি: কেন কেন? ভাবতে পারছো না , কেন?

আমি: আমি ভেবেছিলাম , আপনি হয়তো কোনো বিসিএস ক্যাডার  কেই বিয়ে করবেন।

তুমি: ও এই কথা। আসলে আমি চাইলেই কোন বিসিএস ক্যাডারকে বিয়ে করতে পারতাম।  একজন এডমিন ক্যাডার আমাকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি চাইলে তাকে  বিয়ে করতে পারতাম। কিন্তু করিনি। কারণ বিসিএস ক্যাডারের সন্তানেরা কখনো বিসিএস ক্যাডার হতে পারবে এর গ্যারান্টি নেই। কিন্তু একজন বিজনেসম্যান এর সন্তান জন্মগতভাবেই কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়ে জন্মায়। কারণ বিসিএস ক্যাডারের ছেলেকে বিসিএস ক্যাডার হতে হলে অনেক কম্পিটিশন করে বিসিএস ক্যাডার হতে হয়। কিন্তু একজন বিজনেসম্যান কখনো গরিব হয় না। তার সন্তানেরা উত্তরাধিকারসূত্রে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি পায় যা একজন বিসিএস ক্যাডারের সন্তানরা পায় না।

আমি: স্যালুট আপনাকে। সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে আপনার মতোন এত গুণী ও বিচক্ষণ মেয়ে হয়তো আর একটাও নেই।

(বন্ধুরা বুঝতে পারলেন, আমাদের ম্যাডাম কতোটা জিনিয়াস।এমন মেয়েকে যদি কোন পুরুষ স্ত্রী হিসেবে পায়, তাহলে জীবনে  কোন সমস্যাই থাকবে না। কারণ এমন মেয়েরা সব জায়গাতেই নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারে। সকল প্রতিকূল অবস্থা নিজেদের অনুকূলে আনতে পারে। সামনের মাসের 2 তারিখে ম্যাডামের বিয়ে। আমরা সবাই যাচ্ছি , আপনারাও আসবেন।)


এ জাতীয় আরো ..